লালসালু চলচ্চিত্র: সহজিয়া ও রক্ষণশীল ইসলামের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ
মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
Abstract
তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত লালসালু (২০০১) চলচ্চিত্রটি বাংলার গ্রামীণ সমাজে সহজিয়া ও রক্ষণশীল ইসলামের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে একটি গভীর সমাজতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পাঠ হিসেবে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি ধর্মকে কেবল আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের এক কার্যকর কাঠামো হিসেবে নির্মাণ করে। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্রে সহজিয়া ও রক্ষণশীল ইসলামের সাংস্কৃতিক উপস্থাপন, চরিত্র নির্মাণ, বয়ান ও ভিজ্যুয়াল ভাষার মাধ্যমে ধর্মীয় মতাদর্শের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করা। গবেষণাটি গুণগত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্র বিশ্লেষণে তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আন্তোনিও গ্রামসির ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ তত্ত্ব’ ও স্টুয়ার্ট হলের ‘রিপ্রেজেন্টেশন তত্ত্ব’। এই দুই তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে ধর্মীয় কর্তৃত্ব, জনগণের সম্মতি নির্মাণ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মজিদ চরিত্রটি ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতীক, যিনি ভয়, ধর্মীয় ভাষা ও কর্তৃত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার বিপরীতে, গ্রামীণ বিশ্বাস ও লোকাচার, যেমন: শিলারী আচার, বাউল গান ও কৃষিভিত্তিক লোকসংস্কৃতি সহজিয়া ইসলামের মানবিক, সহিষ্ণু ও লোকজ চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে, যা মজিদের দৃষ্টিতে ‘বেদাতি’ ও ‘অধার্মিক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল বিন্যাস, বিশেষত ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, আলো ও রঙের ব্যবহার-ধর্মীয় ক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস ও সাধারণ মানুষের অধীনতাকে দৃশ্যমান করে তোলে। সার্বিকভাবে, লালসালু বাংলার সমাজে মানবিক সহজিয়া ধর্মবোধ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রক্ষণশীল ইসলামের সংঘাতকে উন্মোচন করে এবং দেখায়, কীভাবে ধর্মীয় আধিপত্য সংস্কৃতি ও মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুনরুৎপাদিত হয়।
Full Text
